বিশ্বব্যাপী রেকর্ড শস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস আইজিসির

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষেও (জুলাই-জুন) আগের বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রেকর্ড পরিমাণে শস্য উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)।

বিশ্বব্যাপী ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষেও (জুলাই-জুন) আগের বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রেকর্ড পরিমাণে শস্য উৎপাদন হতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি)। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বৈশ্বিক গম ও দানাদারসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ২৩৭ কোটি ৬০ লাখ টনে। এটি আগের বছরের রেকর্ড সর্বোচ্চ উৎপাদনের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইনস ডটকম।

তবে সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী গমসহ দানাদার শস্যের মোট সম্ভাব্য উৎপাদনের পরিমাণ আগেকার প্রাক্কলন থেকে ১০ লাখ টন কমিয়ে নতুন করে পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি।

সংস্থাটি বলছে, ভুট্টা ও গমের বাম্পার ফলন ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে মোট শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখবে। এ সময় গম উৎপাদন আগের বিপণন বর্ষের তুলনায় ৮০ লাখ টন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৮০ কোটি ৮০ লাখ টনে। অন্যদিকে ভুট্টা উৎপাদন ৪ কোটি ৮০ লাখ টন বেড়ে পৌঁছবে ১২৭ কোটি ৬০ লাখ টনে।

২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য ব্যবহারও বাড়তে পারে। এ সময় খাদ্য ও পশুখাদ্য খাতে শস্যের ব্যবহার বাড়তে পারে যথাক্রমে ১ কোটি ৩০ লাখ ও ১ কোটি ৬০ লাখ টন। এছাড়া এ সময় শিল্প খাতে খাদ্যশস্যের ব্যবহার বাড়তে পারে ৭০ লাখ টন।

এদিকে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোয় ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে সয়াবিন উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে এ সময় বৈশ্বিক সয়াবিন উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়ে পৌঁছাবে ৪২ কোটি ৮০ লাখ টনে। তবে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কিছু রফতানিকারক দেশে মজুদ কমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইজিসি। দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর বাজার দখলের হার বাড়ার ফলে বৈশ্বিক সয়াবিন আমদানিও ২ শতাংশ বাড়বে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী চাল উৎপাদন বেশ কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রেখেছে। চলতি বিপণন বর্ষেও খাদ্যশস্যটির রেকর্ড উৎপাদন হতে পারে। পাশাপাশি আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোয় খাদ্য চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে চাল ব্যবহারে ১ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে আইজিসি।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম ওঠানামা পর্যবেক্ষণের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক আইজিসির গ্রেইনস অ্যান্ড অয়েলসিডস ইনডেক্স (জিওআই)। সংস্থাটির এ সূচক জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এটি এখনো ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে চালের দাম ৩২ শতাংশ কমে যাওয়া।

আরও